April 19, 2026, 5:02 pm

তালায় চতুর্থবার কন্যা সন্তানের জন্ম, হওয়ায় ৮ দিনের সন্তান কে হত্যা করলো মা

কাজী ইমদাদুল বারী জীবন তালা উপজেলা প্রতিনিধি :তিনটি কন্যা সন্তান হওয়ার পরে আরেকটি কন্যা সন্তান হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৮ দিন বয়সী এক কন্যা সন্তানকে গলাটিপে পানিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে মা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (০২ জুন) ভোরে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক শ্যামলী ঘোষ (৩৫) খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মানিক ঘোষের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, ২৫ মে রাতে মানিক ঘোষ ও শ্যামলী দম্পত্তির একটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। তাদের আগে তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। মঙ্গলবার (০১ জুন) সকাল থেকে নবজাতকটি নিখোঁজ ছিল। পরে গ্রামবাসীসহ পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে রাতে বাড়ির পাশে পুকুরে নবজাতকটির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা আজমীর হোসেন জানান, ছেলে সন্তানের আশায় বাচ্চা নিয়ে মেয়ে হয়েছে। এর আগে ওই দম্পতির ৩টি কন্য সন্তান রয়েছে। সে কারণে রাগ করে নবজাতকটিকে মেরে ফেলেছে।

খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান লিটু জানান, ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য চৌকিদারকে পাঠানো হয়েছিল। চৌকিদার ফিরে এসে জানিয়েছে শ্যামলী ঘোষের স্বামী মানিক ঘোষ বলেছেন, তিন মেয়ের পর আবার মেয়ে হয়েছে। এ মেয়েকে মেরে না ফেললে তোকে আমি বাড়িতে রাখব না। সে স্বামীর কথামতো নবজাতকটিকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। পরে রাতে পুলিশ নবজাতকটির মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জনান, নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শ্যামলী ঘোষকে জেল হাজোতে প্রেরন করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা